
-
- ১৯৬৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ২৬ জুন জাতিসংঘ ঘোষিত ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস” পালিত হয়ে আসছে।এবছর ২৬ জুন দিবসটিকে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে UNODC কর্তৃক এবছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ কয়েছে, “The evidence is clear: invest in prevention. Break the cycle. #StopOrganizedCrime”
বৃহস্পতিবার ২৬ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কর্তৃক ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পড়ারবিরোধী অন্তর্জাতিক দিবস-২০২৫” উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন,হোটেল সৈকতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ফরিদা খানম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড.মো: জিয়াউদ্দীন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, রেঞ্জ ডিআইজি,মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রাম এর অতিরিক পরিচালক মো:জাহিদ হোসেন মোল্লা,পুলিশ সুপার,মো: সাইফুল ইসলাম সানতু, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম,র্যাব-৭,অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথি ড.মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিতিরা মাদকের বিরুদ্ধে যোদ্ধা। আরো একটি গোষ্ঠী রয়েছে যারা আমাদের শত্রু। ঐ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদের দায়িত্বকে সবার সামনে তুলে ধরতেই আজকের এই আয়োজন। মাদক নির্মূলে শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রচেষ্টাই যথেষ্ঠ নয়। সুস্থ ও সুন্দর মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।সভাপতি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম, মাদককে না বলার মাধ্যমে সুখী সমৃদ্ধ জীবন গড়ার আহ্বান জানাতেব হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো: জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাদকের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, ব্যার, আনসার, কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে কাজ করে আসছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মাদকবিরোধী গণসচেতনতার পাশাপাশি মাদকের সরবরাহ হ্রাসে মাদক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, মামলা রুজু, মামলা তদন্ত, বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত োমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক ৯.৫৯৬ টি অভিযান পরিচালনা করত। ১,৬৫৮ টি মামলা রুজু করা হয়। আসামীর সংখ্যা ১,৮৫৬ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে সরকারিভাবে ২৫ শয্যা বিশিষ্ট ০১ (এক) টি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র ও বেসরকারি পর্যায়ে ৪৪ টি মাদকাসক্তি নিরাময় পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময়/ পুনর্বাসন কেন্দ্রসমূহের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৬২৫।
রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদকের অপব্যবহারে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা নষ্ট হয়। যারা মাদকে জড়িত হয়েছে তাদের অপরাধী হিসেবে না দেখে রোগী হিসেবে চিক্কা করতে হবে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূইয়া, বলেন মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মো: সাইফুল ইসলাম সানতু, বলেন মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে বরং প্রত্যেক নাগরিককেই সচেতনভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যাতে মাদকের উৎসকে বিনষ্ট করতে পারি। লে. কর্নেল মো হাফিজুর রহমান, বলেন, সমাজের সকলকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাদক একটি নীরব ঘাতক। ধুমপানের মাধ্যমেই এর শুরু। তিনি এ বিষয়ে পরিবারের অভিভাবকসহ সমাজের সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানান এবং পরিবারে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে জোর দেন।


