
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযানের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেছেন দুর্বৃত্তরা। আহত কর্মকর্তার নাম আবু সাঈদ রানা, যিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানায় উপ পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার ১১ আগস্ট গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। রাতের নীরবতা ভেঙে ইশান মিস্ত্রি হাট সংলগ্ন সড়কে ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। এসময় পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযানের এক পর্যায়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী শাকিল তার সহযোগীরা এসআই সাঈদ রানাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার ঘাড় ও মাথায় গভীর সৃষ্টি হয়, ফলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মী পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার অবস্থায় গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন রানা বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ ঘটনার পর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ অভিযান চালায়। রাতভর অভিযানে শাকিলের ঘনিষ্ঠ ১৮ সহযোগীকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আটককৃতরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তবে মূল অভিযুক্ত শাকিল এখনও পলাতক, তাকে ধরতে জোর তল্লাশি ও চলছে। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু আফতাব উদ্দিন বলেন, “এসআইকে গুরুতর আহত করার পরও আমাদের অভিযান যায়নি। মূল আসামিকে ধরতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। পুলিশের বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান জানান, এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় যৌথ বাহিনীর টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী চক্রের কোনো অবশিষ্ট সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে, সিএমপির উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেছেন, , “গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার সব ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভিন্ন দলে দলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্প্রতি এলাকায় টহল ও অভিযান জোরদার করেছে, তবুও কয়েকজন প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চতুরতার সঙ্গে পুলিশের থেমে চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সোমবার রাতের এই সহিংসতার খুব ঘটনা ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর ” মনে আরও গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটির পর পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী গোষ্ঠীকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। মূল অভিযুক্ত শাকিলকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে, এবং তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


