বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
spot_img

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর বিশেষ মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি।

মঙ্গলবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতার মতো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খাল, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও স্পষ্ট করতে হবে।

তিনি বলেন, ছোট-বড় খাল, নালা ও ড্রেনের মধ্যে কার্যকর সংযোগ না থাকলে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন। কোথাও খাল দখল বা ভরাট হলে কিংবা ড্রেন বন্ধ থাকলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রকল্পের পাশাপাশি একটি সমন্বিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চলতি বছরে চট্টগ্রামে একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল, পাহাড় কাটা এবং খাল-নালায় মাটি-বালু জমে যাওয়াও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

মেয়র জানান, নগরীর প্রায় ৪০টি খাল নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ডিপিপি রয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু খালের সংস্কার ও পুনঃখননের কাজ চলছে। এসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, বড় খাল সংস্কার ও সুইসগেট নির্মাণের পাশাপাশি ছোট নালা ও খালগুলোর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ছোট নালা থেকে বড় খাল এবং সেখান থেকে নদী পর্যন্ত পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানও পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি খাল, নালা, ড্রেনেজ ও স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এ কাজে প্রায় ৫ হাজার ৭০০টি বৈধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে পুনরায় দখল, ময়লা-আবর্জনা ও ভরাটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল নষ্ট হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল তারিকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা, খাল দখল ও ভরাট, রেগুলেটর ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত