
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রসিকিউশন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ পর্যন্ত এই মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে আজ চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এর আগে তিন দিনে পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং গ্রেফতার আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে সহযোগিতা করার শর্তে আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রোভার) হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
এর আগে গত ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর পাশাপাশি গুম-খুনের অভিযোগ এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুটি মামলা তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের আগস্টে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা হিসেবে বিচারাধীন।