চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন নারিকেল তলা এলাকায় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মাহাবুবা আক্তারকে (২৪) শ্বাসরোধে হত্যার চার বছর পর অবশেষে মূল পরিকল্পনাকারী মো. আরিফ (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গত ২৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকার জসিমের কলোনি থেকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর এসআই মো. মহসীন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি: পরদিন, ২৫ আগস্ট সোমবার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে হাজির করা হলে আসামি মো. আরিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, নিহত গৃহবধূর শাশুড়ি নাজনিন বেগম এবং স্বামী মো. আব্দুল গোফরানের প্ররোচনায় মাহাবুবাকে হত্যার জন্য তিনি সম্মত হন।
ভাড়াটে খুনি হিসেবে চুক্তি: জবানবন্দিতে আরিফ আরও জানান, তিনি চট্টগ্রামের ফ্রিপোর্ট এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ভিকটিমের শাশুড়ি তাকে দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিকে মাহাবুবা আক্তারকে হত্যার প্রস্তাব দেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে আতুরার ডিপো এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের সম্পর্ক ও প্রেক্ষাপট: ২০২১ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার নারিকেল তলা এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মাহাবুবা আক্তার ছিলেন তার স্বামী মো. আব্দুল গোফরানের খালাতো বোন এবং এটি ছিল গোফরানের দ্বিতীয় বিয়ে।
ঘটনার পরদিন, ১৭ জুলাই নিহতের ভাই মো. মিশকাত ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আদালতের মন্তব্য: মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে মাহাবুবার স্বামী আব্দুল গোফরানও জড়িত ছিলেন। তিনি জামিনে থাকলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়া: পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর এসআই মো. মহসীন চৌধুরীর নেতৃত্বে দীর্ঘ তদন্ত ও নজরদারির পর মূল পরিকল্পনাকারী আরিফকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।