
বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে ফের সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ স্থানীয় আদালতের (অধস্তন আদালত) নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার রায় ঘোষণা করেন। জনস্বার্থে করা মামলায় রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যামিকাস কিউরি শরীফ ভূঁইয়া শুনানি পরিচালনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অন্যান্য আইনজীবীরা।
রায়ের পর অ্যামিকাস কিউরি শরীফ ভূঁইয়া বলেন, “১১৬ অনুচ্ছেদকে পরবর্তীতে যেভাবে সংশোধন করা হয়েছিল, সেই সংশোধনগুলো বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। পঞ্চম সংশোধনী ইতিমধ্যেই আপিল বিভাগ বাতিল ঘোষণা করেছিল; আজ চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর সংশোধনও বাতিল করা হলো।”
রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের করায়ত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে অধস্তন বিচার বিভাগ মুক্তি পেয়েছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা ফিরে পাবে। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগের সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার উপর রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। যে কোনো সরকারের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে থাকত; এই রায়ের মাধ্যমে তা রোধ করা সম্ভব হবে। এটি দেশের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল সাংবিধানিক পদক্ষেপ।”
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। পরে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে হস্তান্তর করা হয়। হাইকোর্টের এ রায়ে মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ কার্যকরভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।