
আওয়ামী লীগের জনসভায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সব আসামির খালাস বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চাননি; বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিএনপি নেতাদের মামলায় জড়িয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন,
“আজকে রাষ্ট্র কর্তৃক আনিত সব আপিল ও পিটিশন ডিসমিস হয়েছে। অর্থাৎ হাইকোর্টের দেয়া খালাসের রায় বহাল আছে। আমি গর্বিত আমার সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে। আদালত আবারও প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশে আইনের শাসন আছে। তারেক রহমানসহ সকল আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।”
তিনি আরো বলেন, “এই মামলার তদন্ত সঠিকভাবে হয়নি বলে হাইকোর্ট পুনঃতদন্তের পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। কিন্তু সেটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, বিচার বিভাগের নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বেচ্ছায় দেয়া স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনো জবানবন্দি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মুফতি হান্নানসহ যাদের স্বীকারোক্তি জোরপূর্বক নেয়া হয়েছিল, সেগুলো আইনের দৃষ্টিতে অকার্যকর।”
তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন,
“সুপ্রিম কোর্ট আজ প্রমাণ করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ন্যায়বিচার পেয়েছেন। শেখ হাসিনা রাজনৈতিক উদ্দেশে এবং ব্যক্তিগত জিঘাংসা থেকে তাকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আজ প্রমাণ হলো তারেক রহমান নির্দোষ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা যদি সত্যিই আইভি রহমানসহ নিহতদের জন্য বিচার চাইতেন, তাহলে প্রকৃত অপরাধীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তারেক রহমানকে এই মামলায় জড়াতেন না।”
রায় ঘোষণার সময় আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।