
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম (২৪) সংঘর্ষের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো জ্ঞান ফেরেনি। ৩১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সায়েমের খুলির ভেতরের অংশ ও রক্তনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম জানান, “এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি, অবস্থা অপরিবর্তনীয়।”
আইসিইউর বাইরে ছেলের অপেক্ষায় দিন-রাত পার করছেন সায়েমের বাবা-মা। মা শাহনাজ আমির আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া চাই আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে আবার কোলে ফিরে আসে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থাকলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না।
একই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়া। অস্ত্রোপচারের সময় তার মাথার খুলি খুলে রাখা হলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে তাকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে তার মাথায় লিখে দেওয়া হয়েছে, “হাড় নেই, চাপ দিবেন না”—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
মামুনের বড় ভাই মাসুদ রানা জানান, “মামুনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সে কথা বলতে পারছে। তবে খুলিটি প্রতিস্থাপনের জন্য অন্তত দেড় মাস সময় লাগবে।”
প্রসঙ্গত, গত ৩০ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে ৩১ আগস্ট দফায় দফায় সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে আইসিইউতে রাখা হয় এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।