
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ‘সবশেষ সাক্ষী’ হিসেবে সাক্ষ্য দেবেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।
যদিও তার আগের সাক্ষী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ায় এদিন নাহিদ ইসলাম জবানবন্দি দিতে পারেননি। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, “সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ায় আজ নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে না। আশা করি আগামীকাল ট্রাইব্যুনাল তার জবানবন্দি গ্রহণ করবেন।”
সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন সরকারের নৃশংসতা ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর প্রথম দাবি ছিল, এই বিচার প্রক্রিয়া যেন যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার পাব। এই মামলায় হয়তো আমি শেষ সাক্ষী। আমার সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলাটি রায়ের দিকে যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শুধু এটি নয়, সারা দেশে আরও মামলা রয়েছে। ফলে এই বিচারপ্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ সময় চলতে পারে। নির্বাচনের পরেও যেন বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি হওয়া দরকার। সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে যেন এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেটিই প্রত্যাশা।”
এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর আগে, গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৪৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, এবং নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের পর রায় ঘোষণার দিকে মামলাটি এগোবে।