
চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকার চক্রশো কানন আবাসিকের পিছনে একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার সকালে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বস্তিটিকে ঘিরে লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। আগুনের ধোঁয়া দ্রুত কেডিএস ফ্যাক্টরি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকসহ আশপাশের মানুষ মুহূর্তেই ধারণা করেন ফ্যাক্টরিতেই আগুন লেগেছে। এতে কর্মীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় এবং চারদিকে উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসেন জানান, হঠাৎই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। বস্তির ভেতর থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেলে সবাই ভেবে নেন কেডিএস ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। তিনি বলেন, “ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে বিপর্যয় নেমে আসত। আমরা সবাই দৌড়ে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনো কিছু জায়গায় ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।”খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অক্সিজেন, বায়েজিদ ও আগ্রাবাদ স্টেশনের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজ শুরু করে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগলেও প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “অক্সিজেন এলাকার একটি বস্তিতে আগুন লাগে। আমাদের পাঁচটি ইউনিট কাজ করেছে। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে। কেউ আহত হয়নি।” তিনি আরও জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও তদন্তাধীন। বস্তির ঘরগুলো দাহ্য নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে আগুনের ঘটনায় কেডিএস ফ্যাক্টরি এলাকায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন নেভানোর পর। স্থানীয়রা জানান, বস্তির ঘরগুলো ঘিঞ্জি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশ হয়েছে। বহু পরিবার মালপত্র কিছুই বের করতে পারেনি।ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০–২৫টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে তদন্ত শেষে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।হঠাৎ আগুনে পুরো এলাকায় বিরাজ করে কয়েক ঘণ্টার আতঙ্ক, যদিও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় কেডিএস ফ্যাক্টরি ও আশপাশের এলাকা।