
মালাইকা বলেন, একজন নারীর জীবনে দৃঢ়তার পরিচয় মানেই তাকে নিয়মিত প্রশ্ন ও সমালোচনার মোকাবিলা করতে হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীকে আলাদা মানদণ্ডে বিচার করা হয়। তিনি বলেন, “আজ একজন পুরুষ নতুন সম্পর্কে যায়, ডিভোর্স দেয়, নিজের অর্ধেক বয়সী কাউকে বিয়ে করে—তাহলে সবাই বলে, ‘ওয়াও, কী দারুণ!’ কিন্তু একজন নারী একই কাজ করলে প্রশ্ন ছোড়া হয়—‘এটা কেন করলে? তার কি বুদ্ধি নেই?’”বলিউডে তরুণ অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে মালাইকার অতীত সম্পর্ক নিয়ে বছরের পর বছর সমালোচনা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তার জীবনে যেসব পুরুষ এসেছেন, তারা তাকে সমর্থন করেছেন এবং এই সমর্থন তার কাছে গভীরভাবে মূল্যবান। কিন্তু সমাজ একই আচরণে নারীদের প্রতি এখনো নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
অভিনেত্রী বলেন, সমাজ এখনো মনে করে একজন নারীকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জীবনযাপন করতে হবে। সম্পর্ক, বিবাহ বা ক্যারিয়ার নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া নারীদের জন্য এ পথ সহজ নয়। “আপনি যদি দৃঢ় স্বভাবের নারী হন, তাহলে আপনাকে নিয়মিতই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এটা এড়ানোর উপায় নেই,” বলেন মালাইকা।নিজের তরুণ বয়সের দিনগুলো স্মরণ করে মালাইকা জানান, তখন তিনি ভাবতেন সাধারণ জীবনযাপনই যথেষ্ট—কিছু গান করবেন, বিয়ে করবেন, সংসার করবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারেন, তিনি বড় স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন এবং স্থির হয়ে থাকতে চান না। “সব সময় অন্য রকম কিছু করতে চাইতাম,” বলেন তিনি।২৫ বছর বয়সে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মালাইকা, যা তার মায়ের কাছে ছিল বিস্ময়কর। মা সব সময়ই বলতেন—জীবনকে উপভোগ করতে এবং দুনিয়া দেখার পর সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু মালাইকা প্রথম সম্পর্ককেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। “মা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তবে তিনি সব সময়ই আমাদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিয়েছেন, কখনো থামিয়ে রাখেননি,” বলেন অভিনেত্রী।
মালাইকার বক্তব্যে স্পষ্ট—বলিউডের মতো গ্ল্যামার জগতেও নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সমাজের প্রশ্ন থেমে থাকে না। বয়স, সম্পর্ক, বিবাহ, ডিভোর্স—যে ক্ষেত্রেই হোক, পুরুষের তুলনায় নারীদের ওপর চাপ বেশি। তার মতে, এই স্টেরিওটাইপগুলো ভাঙতে হলে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।