
হলিউড তারকা ও ব্যবসায়ী কিম কার্দাশিয়ান আবারও বার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। আর এ নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মনোবিদদের ওপর, যাদের ভবিষ্যদ্বাণী—তার পরীক্ষায় পাস করা—শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কিমের ভাষ্য, এসব মনোবিদ কেবলই “মানুষকে বোকা বানানোর মেশিন”।
কিম জানান, তিনি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার এট ল’ পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর একটি টিকটক ভিডিওতে কিমকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে মেকআপ নেওয়ার ফাঁকে ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, “যেসব সাইকোলোজিস্টদের সঙ্গে আমরা দেখা করি—এমনকি মাঝে মাঝে যাদের জন্য আসক্তিও হয়ে পড়ি—তারা শুধু মানুষকে বোকা বানায়। পরীক্ষার আগে চারজনের বেশি মনোবিদ আমাকে বলেছিল, আমি পাশ করবো। ফলাফল দেখে বুঝলাম, তারা সবাই মিথ্যাবাদী।”
তিনি আরও স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন, “তাদের কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না।” ২০১৯ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ল’ অফিস স্টাডি প্রোগ্রামের মাধ্যমে আইন পড়া শুরু করেছিলেন কিম কার্দাশিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রোগ্রামটি প্রচলিত আইন স্কুলে ভর্তি না হয়েও ল’ অফিসে কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ দেয়। তবে এবারের ফল বিপর্যয়ে তার সেই যাত্রা আরও দীর্ঘ হলো।ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলা যায়, টেলিভিশনে যদিও তিনি এখন আইনজীবীর ভূমিকায়—কিমের নতুন হুলু সিরিজ ‘অলস ফেয়ার’-এ তাকে দেখা যাবে একজন অ্যাটর্নি চরিত্রে—বাস্তবে তিনি এখনও বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সিরিজটির প্রচারণার মাঝেই তার এই ব্যর্থতার খবর সামনে আসে।ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রতিক্রিয়ায় কিম বলেন, তিনি ভেঙে পড়েননি। “আমি এখনও আইনজীবী নই। আমি শুধু টিভিতে একজন ভালো পোশাক পরা আইনজীবীর ভূমিকায় আছি। আমার এই যাত্রার ছয় বছর হয়ে গেল, এবং আমি এখনও আটকে নেই—পড়া চালিয়ে যাবো। নতুন উপায় বের করবো, মনোবল হারাবো না।”
তিনি আরও লিখেছেন, পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়াটা তার কাছে “পরাজয় নয়, বরং জ্বালানী” হিসেবে কাজ করবে, আইনের প্রতি কিম কার্দাশিয়ানের আগ্রহ নতুন নয়। অপরাধবিষয়ক আইন সংস্কার ও ভুল সাজা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার তিনি। বেশ কিছু উচ্চপ্রোফাইল মামলায় বন্দিদের পক্ষে প্রচার করেও আলোচনায় আসেন। তার বক্তব্য, আইনজীবী হিসেবে পুরোপুরি যোগ্য হওয়ার পর তিনি আরও প্রভাবশালীভাবে এসব কাজ করতে চান।এদিকে পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর মনোবিদদের বিরুদ্ধে কিমের সরাসরি অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তার হতাশা বুঝতে পারছেন, কেউবা এটিকে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বলে মন্তব্য করছেন।
সূত্র: পিপল, বিজনেস ইনসাইডার