প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১১:৪১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, বিপাকে চরবাসী

৬ ডিসেম্বর পৌষের আগমনের আগেই কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরা শিশিরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আজ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ।
চরাঞ্চলে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশিনদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর তীরে রয়েছে ৪৬৯টি চর, যার মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস। চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ শীতের শুরুতেই হিমেল বাতাসে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।
দইখাওয়ার চর, রাউলিয়া, চরগুজিমারি, কড়াই, বরিশাল, অষ্টমীর চর, সুখের বাতি, বিদ্যানন্দ, গোরকমন্ডল, ধনীরাম ও জগমোহনের চরসহ সব এলাকাতেই প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে।যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, কালির আলগা, গোয়াইলপুরী, ঝুনকার চরসহ প্রায় ২০টি চরে ১৬ হাজার মানুষ শীতে চরম দুর্ভোগে আছেন। এখনো সরকারি শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি বলেও তিনি জানান।
দরিদ্র ও দিনমজুর শ্রেণি সবচেয়ে বিপাকেপ্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বহু দিনমজুর কাজে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের আয় কমে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্ট বেড়েছে।
শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসরাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, ১৫ ডিসেম্বরের পর কুড়িগ্রামে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এর মধ্যে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির আশপাশে ওঠানামা করবে।
হাসপাতালে বাড়ছে রোগীজেলা সদর হাসপাতালসহ নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি-কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশু ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
পরীক্ষার সময় স্কুলে যেতে কষ্টশীতের তীব্রতায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে। বার্ষিক পরীক্ষা চলায় শীতে জমে যাওয়া পরিবেশেও নিয়মিত স্কুলে যেতে হচ্ছে তাদেরকে।গোয়াইলপুরী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া জানান, “হিমেল বাতাসে স্কুলে যেতে কষ্ট হয়, একটু ঠান্ডা লাগলেই সর্দি-কাশি শুরু হয়ে যায়।” একই বিদ্যালয়ের রিক্তা খাতুন ও সুমিও শীতজনিত সমস্যার কথা জানান।
শীতবস্ত্রের অপেক্ষায় চরবাসীরাজারহাট উপজেলার পাড়ামৌলা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শীত বাড়ছে, কিন্তু এখনো সরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র পাইনি।”
পরামর্শ
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, “শীত বাড়লেও রোগীর চাপ এখনও স্বাভাবিক। তবে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।”
Copyright © 2026 নোঙর টিভি. All rights reserved.