
চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার ঢাকায় আসছে না। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অপারেটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকাল ৮টার অবতরণ স্লট অনুমোদন করেছিল। তবে সোমবার অপারেটর প্রতিষ্ঠানটি সেই স্লট বাতিলের আবেদন জানায়।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অপারেটরের অনুরোধে ওই স্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পঞ্চমবারের মতো পেছাল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনযাত্রা।বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের ওপর।
আগের আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং বুধবার লন্ডনে রওনার সূচি চাওয়া হয়েছিল।তবে এই সূচি কার্যকর হবে কি না—তা নির্ভর করছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক সক্ষমতার ওপর। শনিবার মেডিকেল বোর্ড জানায়, তিনি এখনো বিমানযাত্রার উপযোগী নন। যদিও বোর্ডের এক সদস্য ধারণা দিয়েছিলেন, ৯–১০ ডিসেম্বরের দিকে তার শরীর ভ্রমণযোগ্য হতে পারে।কিন্তু এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অপারেটর ৯ ডিসেম্বরের স্লটই বাতিল করায় যাত্রা আবার পিছিয়ে গেল।২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে প্রথমে কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল বিএনপি। পরে দলটি জানায়, "কারিগরি ত্রুটির" কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি বিলম্ব করছে।তবে শুক্রবার কাতার দূতাবাস স্পষ্ট করে জানায়—আমিরের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স আসছে না। বরং জার্মানির এফএআই অ্যাভিয়েশন গ্রুপ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হচ্ছে।সেই অ্যাম্বুলেন্স কখন আসবে—তা এখনো বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
কাতার দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার (সিএল-৬০) সিরিজের দুই ইঞ্জিনের জেট, ২০১৮ সালে প্রস্তুত। এতে রয়েছে—ভেন্টিলেটর ,কার্ডিও মনিটরিং ইউনিট ,ইনফিউশন পাম্প ,অক্সিজেন সিস্টেম ,প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ,নিবিড় পরিচর্যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস দল এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও খালেদা জিয়া কাতারের আমিরের ব্যক্তিগত বহরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।