
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বদলি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ—এমন অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। তাঁদের দাবি, দুই দিনে মোট ১৬ জন কর্মচারীকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় পৃথক বদলি আদেশ জারি করা হয়। প্রথম দফার আদেশে সাতজন কর্মচারীর নাম রয়েছে। তারা হলেন—পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। এদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে এবং তিনজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে।
একই দিনে জারি করা আরেকটি আদেশে পাঁচজন কর্মচারীর নাম রয়েছে। তারা হলেন—উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং খালাসি মো. রাব্বানী। তাঁদের পানগাঁও আইসিটি (ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল)–এ সংযুক্ত করা হয়েছে। বদলি বা পদায়নকৃত কর্মস্থলে আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে প্রথম দফায় সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ চারজনকে বদলি করা হয়। তারা হলেন—অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবীর (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (নৌ বিভাগ), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ) এবং এসএস খালাসি মো. ফরিদুর রহমান (প্রকৌশল বিভাগ)।বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে দুটি পৃথক আদেশে মোট ১২ জনকে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “দুই দিনের আন্দোলনের পরও সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। বরং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের একের পর এক বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হচ্ছে। এতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
তিনি জানান, এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হবে।