
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। সোমবার সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট।
গতকাল রোববার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, দেশটির বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা করছে’। এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্যোগ নিয়েছেন। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার একে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে কোনো বিঘ্ন ঘটলেই সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক বাজারে।তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার ছোট অর্থনীতির দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেলের বড় অংশই এশিয়ায় যায়। তবে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।