বলা হয়, লালগালিচায় তারকারা শুধু ফ্যাশনই নয়, বরং নিজেদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সাহসও তুলে ধরেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিশেষ ধরনের পোশাক—যেগুলোকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম People.com ‘নেকেড ড্রেস’ নামে আখ্যা দিয়েছে—সেগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।
এই পোশাকগুলোকে কেউ দেখছেন সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে, আবার কেউ বলছেন এটি ফ্যাশনের নতুন দিগন্ত। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পোশাক অনেক সময় শালীনতার সীমা অতিক্রম করে।চলতি বছর গোল্ডেন গ্লোবসে উপস্থিত হয়ে পোশাক নিয়ে আলোচনায় আসেন জেনিফার লরেন্স। অনুষ্ঠানে তার পোশাক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলে তিনি মজা করে বলেন, “আমার সঙ্গে কী খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে?”অভিনেত্রী ও গায়িকা তিয়ানা টেইলর নিজের সাহসী পোশাক নিয়ে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এতে কোনো লজ্জা অনুভব করেন না। বরং এটিকে তিনি স্টাইল ও আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন।
অন্যদিকে, মার্গো রবি ‘দ্য বিগ বোল্ড বিউটিফুল জার্নি’ সিনেমার প্রিমিয়ারে ঝলমলে গয়নায় সাজানো পোশাকে হাজির হয়ে আলোচনার জন্ম দেন। তিনি এটিকে আধুনিক ফ্যাশনের অংশ বলে মন্তব্য করেন।ডাকোটা জনসন-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। কেউ তার পোশাকের প্রশংসা করলেও, অনেকে সমালোচনা করেন। তবে তার মতে, এটি ছিল সাহসিকতার বার্তা দেওয়ার একটি মাধ্যম।গায়িকা ও অভিনেত্রী কিয়ারা অস্কার পার্টিতে কালো পোশাকে হাজির হয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। যদিও তার কাছে বিষয়টি ছিল স্বাভাবিক।
এছাড়া মেগান ফাহি, ডুয়া লিপা এবং কাইলি জেনার—সবাই কোনো না কোনো সময়ে এই ‘নেকেড ড্রেস’ ট্রেন্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তারা অধিকাংশই এ ধরনের পোশাককে নিজেদের স্টাইলের অংশ হিসেবে দেখেছেন।পূর্বেও এই ধারা নতুন নয়। বিয়ন্সে ২০১৫ সালে একটি জাদুঘরের প্রদর্শনীতে একই ধরনের পোশাকে হাজির হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। আর জেনিফার লোপেজ ২০০০ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে একই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে, ‘নেকেড ড্রেস’ এখন কেবল একটি ফ্যাশন ট্রেন্ড নয়—এটি হয়ে উঠেছে সাহস, ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির এক বহুমাত্রিক প্রতিচ্ছবি। তবে বিতর্ক থাকলেও এই ট্রেন্ড যে থেমে নেই, তা স্পষ্ট।