চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত নগদ ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা ও ২ হাজার ইউএস ডলার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আগ্রাবাদ মোড়স্থ বিএম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত নবাব অ্যান্ড কোম্পানি (শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর) ও এনসি শিপিং (শিপিং এজেন্ট) অফিসে কর্মচারীরা প্রবেশ করে দেখতে পান অফিসের কাগজপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় রয়েছে এবং দক্ষিণ পাশের জানালার গ্রিল কাটা।
পরে অফিসের বিভিন্ন ফাইল ক্যাবিনেট ও ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযোগ করা হয়, অফিস থেকে নগদ ১ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ৩টি এফডিআর (মোট মূল্য ৭৫ লাখ টাকা) এবং সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ডিভিআর চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং মডেল থানায় পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা রুজুর পর ডবলমুরিং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন খানের নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবিনুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে মো. শাওন (২৩) নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. হৃদয় ওরফে সাগর (২০) এবং মো. রাসেল ওরফে চেগা রাসেল (২৩)-কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, চক্রের লিডার মনির হোসেনের নির্দেশে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা আগ্রাবাদ এলাকায় বিএম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় জানালার গ্রিল কেটে অফিসে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটায়।
পরে তারা চোরাইকৃত টাকা ও ডলার নিজেদের মধ্যে ভাগ-বণ্টন করে নেয়। অভিযানের এক পর্যায়ে চক্রটির আশ্রয়দাতা মো. ইমাম হোসেন (৪৪)-কেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ২ হাজার ইউএস ডলার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির মূলহোতা মনির হোসেনকে গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট চোরাইকৃত টাকা ও ডলার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।