চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, বইপড়া এবং মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের নয়াহাট এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে এই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হওয়া। বর্তমানে সমাজে সম্মান ও নৈতিকতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে, নইলে সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে।
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করে তিনি বলেন, “বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয়নি।” বই মানুষের জ্ঞান বাড়ায় এবং চিন্তার জগৎ প্রসারিত করে। ফুলের পরিবর্তে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিভিন্ন মনীষীর জীবনী পড়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষিকা সিমা মুৎসুদ্দিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন মেয়র। দীর্ঘ ৩০ বছরের সেবার জন্য তাকে সম্মান জানানো শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করেন এবং যারা পুরস্কার পায়নি তাদের ভবিষ্যতে ভালো করার প্রত্যয় নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে সাহসী হতে হবে। তিনি একটি শিক্ষার্থীর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ছোট্ট একটি মেয়েও সাহস করে তার স্কুলের সমস্যার কথা তুলে ধরেছে—এটাই ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ।অভিভাবক ও সমাজের প্রবীণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগে সমাজে মুরুব্বিরা শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখতেন। সেই পরিবেশ আবার ফিরিয়ে আনতে পারলে সমাজ আরও আলোকিত হবে।
স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সকালের নাস্তা করে স্কুলে আসার পরামর্শ দেন। খালি পেটে স্কুলে এলে মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া সুষম খাদ্য গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন।
মেয়র জানান, সিটি কর্পোরেশনের অধীনে স্কুল-কলেজগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় ছাড় সুবিধা পাবে।পরিশেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। তাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তাদের সফলতা কামনা করেন।
চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক আজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নেজামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জি এম আইয়ুব খান, শামসুল আলম ও মোহাম্মদ ইদ্রিস আলীসহ অন্যান্যরা।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।