
চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নাগরিক সংগঠন ‘সচেতন চট্টলাবাসী’।
রোববার (৭ জুন) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের চট্টগ্রামের সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান চৌধুরী, বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদের সভাপতি এস এম সিরাজুদ্দৌলা, সচেতন চট্টলাবাসীর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী, সদস্য সচিব নোমান উল্লাহ বাহার, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন, রুমেল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বাণিজ্য, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, রাজস্ব আহরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চট্টগ্রামের অবদান সর্বাধিক। কিন্তু অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় চট্টগ্রাম তার প্রাপ্য প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল, ইপিজেড এবং কাস্টমস হাউসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবকাঠামোগুলো জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাই চট্টগ্রামকে কার্যকরভাবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে বহাল রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয় এবং বাকলিয়ায় বরাদ্দকৃত জায়গায় দ্রুত আধুনিক সদর দপ্তর নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়।
উপস্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তর, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো হাবে উন্নীতকরণ এবং দেশের দ্বিতীয় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বৃদ্ধি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। চট্টগ্রামকে তার প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা হলে জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমে আসবে।”সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।