
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পড়ৈইকরা ইউনিয়নের চেনামতি এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গত রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যমতে, সুজন বড়ুয়ার ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে সে একটি চাকু নিয়ে ভিকটিমের বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিল। এ সময় এনি বড়ুয়া তাকে দেখে চিৎকার করলে চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসা প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে সে। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় নিহতের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় আসামি।
গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো মতে ভিকটিমের বাড়ির পেছনের খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।পুলিশের দাবি, দুর্গম এলাকা, আসামির আত্মগোপনের কৌশল এবং আলামত গোপনের চেষ্টা সত্ত্বেও পেশাদার তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকবে।