
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক পুলিশের নাম ব্যবহার করে পরিবহন থেকে কথিত ‘টোকেন’ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক-বন্দর বিভাগের মইজ্জারটেক ট্রাফিক পুলিশ বক্স। ট্রাফিক পরিদর্শক (টি আই) আবু সাঈদ বাকের জানিয়েছেন, তাঁর দায়িত্বাধীন এলাকায় কোনো ধরনের টোকেন বাণিজ্য চলতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে টোকেনের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করত। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ যানবাহন চলাচল ও পুলিশি হয়রানি এড়ানোর আশ্বাস দিয়ে এসব টোকেন বিক্রি করা হতো। চালকদের কাছ থেকে গাড়িপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করত ওই সিন্ডিকেট।এ বিষয়ে স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশাচালক আব্দুল রহিম বলেন, “একাধিক সিন্ডিকেট পুলিশের নাম ব্যবহার করে আমাদের কাছে টোকেন বিক্রি করত। টোকেন না নিলে মারধর ও পুলিশ দিয়ে গাড়ি আটকানোর ভয় দেখানো হতো। পরে জানতে পারি, টি আই আবু সাঈদ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আগেই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।”
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন অভিযানের সময় টোকেন বাণিজ্য কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হয়ে উঠত চক্রটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ির কারণে ওই বাণিজ্য অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মইজ্জারটেক ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ট্রাফিক পরিদর্শক (টি আই) আবু সাঈদ বাকের বলেন, “আমার এলাকায় কোনো ধরনের টোকেন বাণিজ্য চলবে না। যানবাহনের কাগজপত্র ঠিক থাকলে কাউকে অযথা হয়রানি করা হয় না। তবে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ টোকেন বাণিজ্য করছে—এমন অভিযোগ পেয়েছি। কেউ যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চলাচল করলে কোনো চালককে হয়রানির শিকার হতে হবে না। একই সঙ্গে টোকেন বাণিজ্যের নামে চাঁদাবাজি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় পরিবহন চালক ও বাসিন্দারা টোকেন বাণিজ্য বন্ধে ট্রাফিক পুলিশের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে মইজ্জারটেক এলাকায় দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হবে।