
আমির খান অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র গজনি-তে ভয়ংকর খলনায়ক ‘গজনি ধর্মাত্মা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া প্রবীণ ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ সিং রাওয়াত আর নেই। রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, কিছুদিন আগে অভিনেতার শরীরে পুনরায় ক্যানসার ধরা পড়ে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে। অভিনেতা যশপাল শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “‘গজনি’ ও ‘লগান’-এর প্রদীপ রাওয়াত, শান্তিতে ঘুমাও।” ১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন প্রদীপ রাওয়াত। অভিনয়জীবনের শুরু হয় টেলিভিশনের মাধ্যমে। বি. আর. চোপড়ার কালজয়ী ধারাবাহিক মহাভারত-এ অশ্বত্থামার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।১৯৮৫ সালে এতবার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হলেও নব্বইয়ের দশকে অগ্নিপথ, কয়লা, সরফরোশ ও মেজর সাব-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে শক্তিশালী খল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তবে ২০০১ সালে লগান ছবিতে দেবা সিং সোধি এবং ২০০৮ সালে আমির খান অভিনীত গজনি ছবিতে নির্মম খলনায়ক ‘গজনি ধর্মাত্মা’ চরিত্রে অভিনয় তাঁকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। এর আগে ২০০৫ সালে সূর্য অভিনীত তামিল গজনি চলচ্চিত্রেও একই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান।হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রেও ছিল তাঁর সমান দাপট। তেলেগু ছবি সাই-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ খলনায়ক বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন। পরে রাউড়ি রাঠোর, বাঘিসহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে হিন্দি, তেলেগু, তামিল, নেপালি-সহ বিভিন্ন ভাষার শতাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন প্রদীপ রাওয়াত। তাঁর বলিষ্ঠ পর্দা উপস্থিতি, গভীর কণ্ঠস্বর এবং শক্তিশালী খলচরিত্রের অভিনয় তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় অভিনেতায় পরিণত করেছে।অভিনেতার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিকি কৌশল অভিনীত ছাবা, তেলেগু চলচ্চিত্র গায়াপাড্ডা সিমহাম এবং নেপালি ছবি আ বাটা আমা।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গেছেন। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, পর্দায় তিনি যতই ভয়ংকর খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করুন না কেন, বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, আন্তরিক ও সহৃদয় একজন মানুষ। তাঁর অভিনয় ও অবদান ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাক