
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। আগামী রোববার বাঁশখালী সফরে গিয়ে এসব পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে সেখানে দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণসহ অনুষ্ঠানস্থলের অধিকাংশ প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেন।পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বাঁশখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় ও মাটির ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। বন্যায় ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নিজেদের অর্থায়নে নতুন ঘর নির্মাণের সক্ষমতা নেই—এমন পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। ঘরে থাকবে দুটি কক্ষ। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঘরগুলোতে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ঘরের নকশা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রতিটি ঘরের নির্মাণকাজ তদারকির জন্য আলাদা দল গঠন করা হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা প্রশাসকও কয়েক দিন ধরে নির্মাণাধীন ঘর ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু ঘর নির্মাণ করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য নয়; উপকারভোগীরা যেন দীর্ঘদিন নিরাপদে এসব ঘরে বসবাস করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি ঘরের নির্মাণকাজ আলাদাভাবে তদারকি করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রথমে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে। সন্তানদের নিয়ে বসবাস করা ওই নারীর হাতে চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে ১০০টি পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হবে।
এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য বাঁশখালীর একাধিক স্থান পরিদর্শন করা হয়েছিল। বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরাও সম্ভাব্য স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তবে বন্যায় বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় খোলা জায়গার অভাবে সেসব স্থান উপযুক্ত বিবেচিত হয়নি। পরে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকাটি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য নির্বাচন করা হয়।
সেখানে পাশাপাশি দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। হেলিপ্যাড থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঘর হস্তান্তরের নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হবে।জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত নতুনভাবে পরিচিতি পাবে। সৈকতটি দেশ-বিদেশে পরিচিত হলে জেলে সম্প্রদায়-অধ্যুষিত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি মাদরাসার শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
এরপর হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও সহায়তা বিতরণ করা হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরে দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন।জেলা প্রশাসক জানান, মঞ্চ, প্যান্ডেল, হেলিপ্যাড ও নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরের সব প্রস্তুতি শনিবার দুপুরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।