
নারীর ফাঁদে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের অভিযোগে নিজেদের বিমানবাহিনীর এক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে ভারত। ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করা নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হতে পারেন।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি জামিনের জন্য কোনো আবেদন করেননি বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ ওই উইং কমান্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করে। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিল্লির একটি আদালতে হাজির করে। আদালত তাঁকে তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ মে কর্মরত অবস্থায় ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বিমানবাহিনী জানতে পারে, তিনি একজন পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার ‘হানিট্র্যাপে’ পড়েছেন।তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ওই পাইলট হয়তো পাকিস্তানের একটি বড় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কবলে পড়েছিলেন।
ওই নারীর বার্তার জবাব দিতে শুরু করেন তিনি। পরে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদান এবং ভিডিও কলেও কথোপকথন হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই যোগাযোগের সুযোগ নিয়েই ওই নারী পাইলটের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেন।তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য ফাঁস হওয়া তথ্যগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, ওই অ্যাপের মাধ্যমে পাইলটের মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার নিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কটি। এর মাধ্যমে তাঁর ফোনে থাকা তথ্য বা যোগাযোগের ওপর নজরদারি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীরা বর্তমানে পাইলটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যোগাযোগ, মোবাইল ফোন, সংশ্লিষ্ট অ্যাপ এবং ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণ ও ধরন বিশ্লেষণ করছেন।ঘটনাটি ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ হলে পাইলটের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।