প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে কয়েক দিন আগেই ফুটপাত দখলমুক্ত করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। উচ্ছেদ করা হয়েছিল অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট। নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে সাজানো হয়েছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ কাজীর দেউড়ি এলাকা। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছিল পথচারীদের মধ্যে। তবে সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। প্রধানমন্ত্রীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ফুটপাত দখলে নিতে শুরু করেছেন হকাররা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে চার দিন আগে থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় চসিক। এ সময় জামালখান, চকবাজার, কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি নতুন রং ও তুলির আঁচড়ে সাজানো হয় পুরো এলাকা। এতে ফুটপাতগুলো ফিরে পায় স্বাভাবিক চেহারা, স্বস্তি ফেরে নগরবাসীর মধ্যে। তবে সোমবার দুপুরের পর থেকেই বদলে যেতে থাকে সেই দৃশ্য। কাজীর দেউড়ি এলাকায় একে একে ফুটপাতের ওপর দোকান সাজিয়ে বসতে শুরু করেন হকাররা। বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আগের মতোই ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা। এতে পথচারীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকার বলেন, পেটের দায়েই ফুটপাতে বসতে হয় তাদের। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তাদের ভাষ্য, এর আগেও কয়েক দফা উচ্ছেদ করা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে কিছুদিন পর আবারও একই জায়গায় ফিরে আসতে হয়। এক হকার বলেন, ‘পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করে এভাবে বারবার উচ্ছেদ করা হলে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। প্রশাসন যেন স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। হঠাৎ করে পেটে লাথি না মেরে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হোক।’ ফুটপাত আবার দখল হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ পথচারীরাও। মো.তাফসির হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় কাজীর দেউড়ির ফুটপাতগুলো বেশ পরিপাটি ছিল। ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটা গেছে। কিন্তু এক দিন পার না হতেই আবার আগের চিত্র ফিরে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে নগরবাসীর স্বাভাবিকভাবে হাঁটার অধিকারই ক্ষুণ্ন হবে। আরেক পথচারী ইমন বলেন, প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুটপাতের ওপর অবৈধ দোকান বসতে থাকে। এতে মানুষের ভিড় বাড়ে এবং ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ থাকে না। বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। এদিকে চসিক জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার চিত্র পেছনে ফেলে কাজীর দেউড়ি মোড়কে নান্দনিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্কিট হাউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটিতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। ব্যস্ততম এ এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে নগরবাসীর দাবি, শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফর কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালালে সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প স্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে উচ্ছেদের পর আবারও ফুটপাত দখলের এই চক্র চলতেই থাকবে। এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।