
কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৩১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ দুই চোরাচালানকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল ও সৌদি আরবের তিনটি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, একটি অসাধু চক্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণের একটি চালান দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন কক্সবাজারের একটি দল কক্সবাজার বিমানবন্দর সংলগ্ন নতুন ফিশারি ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেয় কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল। তবে মোটরসাইকেলে থাকা আরোহীরা সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন।আটকের পর তাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৭৫ লাখ টাকা।এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৭৪২ টাকা, সৌদি আরবের ১০ রিয়াল এবং সৌদি আরবের তিনটি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্বর্ণের চালানটি দুবাই থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তারা এর আগেও একাধিকবার এ ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, এ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অসাধু ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের শনাক্ত ও আটকের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।জব্দ করা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য আলামত এবং আটক দুই চোরাচালানকারীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালানবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।