
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে মোহাম্মদ সাকিব হত্যা মামলায় ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা, চট্টগ্রাম মহানগরী ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ সাকিব চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানাধীন চররাঙ্গামাটিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি চান্দগাঁও থানাধীন বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলে চাকরি করতেন।ঘটনার কয়েকদিন আগে মোহাম্মদ ইমন নামের এক ব্যক্তি জনৈক আদনানের একটি মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সাকিব প্রতিবাদ করেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ইমনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাকিবের সঙ্গে ইমন ও তার সহযোগীদের বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৫ মিনিটে সাকিব তার প্রতিবেশী মো. নাবিল হাসান জিসানের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে মোহরা মৌলভী বাজার এলাকা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা কামাল বাজারের লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করেন।অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে অবস্থান করা ইমনসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাকিবকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে ইমন ধারালো চাকু দিয়ে সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে সাকিব রাস্তায় পড়ে গেলে অন্যরাও তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।
পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাকিবকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৬/৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চান্দগাঁও থানার মামলা নম্বর-২১, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪২/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল রোববার চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম জেলা ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারভুক্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫), মো. শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) এবং মো. ফয়সাল (২৩)।অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।