মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়েছে। এতে সেতুর পূর্ব পাশের প্রায় ৫০ মিটার রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় বাসের আট যাত্রী আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাগুরা থেকে ঢাকাগামী বাসটি মাওয়া প্রান্তের ঢাল দিয়ে নামার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঢাল দিয়ে নামার সময় বাসটি অন্য একটি বাসকে অতিক্রমের চেষ্টা করে। এ সময় বাসটির গতি বেশি ছিল। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি ডানে-বাঁয়ে দুলতে থাকে এবং পরে সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতরে থাকা আটজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে তাদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি ও রেকারের সহায়তায় বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, দুর্ঘটনায় পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হলেও অনেক চালক তা মানছেন না। দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা যানবাহনগুলোর গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল বলে সেতু-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেতুর নিরাপত্তায় প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।