ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করে তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে জোট সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। এ সময় তাঁরা ‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’ এবং ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের হাতে নেতানিয়াহুবিরোধী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।
পরে হাবিমা স্কয়ার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাবিন স্কয়ারে যান তাঁরা। সেখানে ঢোল বাজিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবর্তন আনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’। একই দাবিতে জেরুজালেমেও বিক্ষোভ হয়েছে। ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি গোষ্ঠী ইসরায়েলজুড়ে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হার্জলিয়া শহরেও বিক্ষোভ হয়।
ইসরায়েলে গত ২৮ অক্টোবর পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন কোনো দল বা জোট এককভাবে পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১৯টি আসন।
এই হিসাবে বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। এতে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করা নিয়ে বিরোধী শিবিরে মতপার্থক্য রয়েছে। বিরোধী চার দলের মধ্যে তিনটি দল—ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু—আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট সরকার গঠনে আগ্রহী নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মধ্যে পার্লামেন্টের স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর বিষয়েও সমঝোতার খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরির বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পার্লামেন্টের শুরুতে তাঁকে সরিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে স্পিকার করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনে সংখ্যার হিসাবে বিরোধী পক্ষের সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।