খুলনায় ১১ দলীয় জোটের পূর্বনির্ধারিত লংমার্চ কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। এতে আব্দুল খালেক (৭০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসে থাকা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ অন্তত অর্ধশত যাত্রী আহত হয়েছেন।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার কুমিরা বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল খালেক তালা উপজেলার খলিলখালী ইউনিয়নের কাশিয়ডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লংমার্চ শেষে সাতক্ষীরাগামী বাসটি (সিলেট-জ ১১-০৬৯০) কুমিরা বটতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় এক পথচারী হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁকে বাঁচাতে চালক দ্রুত ব্রেক করেন এবং বাসটির চাকা ঘোরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। বাসের নিচে চাপা পড়ে পথচারী আব্দুল খালেক ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকা পড়েন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত অন্তত অর্ধশত যাত্রীকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে লংমার্চে অংশ নেওয়া প্রায় ৫০ থেকে ৬২ জন যাত্রী ছিলেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাসের নিচে অন্য কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা বাসটি পুকুর থেকে তোলার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে বাসটি উদ্ধারে কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।