বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
spot_img

চবির ঘটনায় গ্রাম ছাড়ছে পুরুষরা, ভুতুড়ে জোবরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর এলাকায় নেমে এসেছে নীরবতা ও আতঙ্ক। গ্রামটি কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে; অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার জারি করা ১৪৪ ধারার সময়সীমা বাড়িয়ে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেছে। এতে ৯৮ জনকে নামীয় এবং আরও প্রায় এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, “সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা ও একটি জিডি হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার অনুরোধ করছি।”

জোবরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানপাট ও ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে, টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন পরিস্থিতি চাননি, বরং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসা এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চান। কেউ কেউ মনে করছেন, শনিবার রাতের ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ২ নম্বর গেট বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করত, তবে সংঘর্ষ এতোটা ভয়াবহ হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, “এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪৪ ধারার মেয়াদ মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।”

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে। দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাফিয়া খাতুনকে একটি ভবনের দারোয়ান বাসায় ঢুকতে বাধা দেন এবং তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সেখান থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং রবিবারও তা অব্যাহত থাকে।

এ ঘটনায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি, প্রক্টর, সাংবাদিকসহ শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত