
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন-জি আন্দোলন’ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করার পরও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেনি; বরং তারা দেশটির সংসদ ভবনে অনুপ্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি অভিযোগ করে বলেন, শত শত বিক্ষোভকারী হঠাৎ সংসদ এলাকায় ঢুকে মূল ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী কাঠমান্ডু মহানগরীর মেয়র বালেন্দ্র শাহ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন, তাই এখন আর প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতির দিকে যাওয়া উচিত নয়। সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ আসলে জনগণেরই যৌথ সম্পদ। দয়া করে শান্ত থাকুন, জাতীয় সম্পদের ক্ষতি মানে আমাদের সবার ক্ষতি।”
দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওলির পদত্যাগের পর ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এরপরই পার্লামেন্ট ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি— কাঠামোগত সংস্কার, দুর্নীতির অবসান এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি।
এর আগে সোমবার দুর্নীতি ও ডিজিটাল সেন্সরশিপবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হন। এটিকে নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি প্রজন্মের এই আন্দোলন দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


