
মাতৃত্বের সময়েও ক্যামেরার সামনে: বলিউডের যেসব অভিনেত্রী গর্ভাবস্থায় কাজ চালিয়ে গেছেন
মাতৃত্ব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে আধুনিক বলিউডে গর্ভাবস্থাকে আর ক্যারিয়ারের বিরতি হিসেবে দেখা হয় না। বরং অনেক অভিনেত্রীই এই সময়েও পেশাগত দায়িত্ব পালন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে এমন আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন সময়েও দীপিকা তাঁর চলমান চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলোর কাজে সক্রিয় রয়েছেন। এর আগে ‘কাল্কি ২৮৯৮ এডি’ (২০২৪) সিনেমার প্রচারণা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজও তিনি অন্তঃসত্তা অবস্থায় সম্পন্ন করেছিলেন। ছবিতে তাঁর চরিত্রটিও ছিল একজন গর্ভবতী নারীর।শুধু দীপিকাই নন, বলিউডে আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী গর্ভাবস্থার সময়ও শুটিং, ডাবিং কিংবা প্রচারণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
আলিয়া ভাট – ‘হার্ট অব স্টোন’ (২০২৩) হলিউডের অ্যাকশন-স্পাই থ্রিলার ‘হার্ট অব স্টোন’-এর শুটিং চলাকালে আলিয়া ভাট অন্তঃসত্তা ছিলেন। শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং কিছু দৃশ্যে অংশ নিলেও চিকিৎসক ও নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে তিনি কাজ সম্পন্ন করেন।
ইয়ামি গৌতম – ‘আর্টিকেল ৩৭০’ (২০২৪)
‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ইয়ামি গৌতমও অন্তঃসত্তা ছিলেন। ছবির অ্যাকশনধর্মী দৃশ্য ও ডাবিংয়ের কাজ তিনি গর্ভাবস্থাতেই শেষ করেন, যা দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
কাজল দেবগান – ‘উই আর ফ্যামিলি’ (২০১০) দ্বিতীয় সন্তান যুগের জন্মের আগে কাজল ‘উই আর ফ্যামিলি’ সিনেমার শুটিং ও প্রচারণায় অংশ নেন। এমনকি একটি নৃত্যদৃশ্যের কাজও তিনি ওই সময় সম্পন্ন করেছিলেন।
কারিনা কাপুর খান – ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ (২০১৮) ও ‘লাল সিং চাড্ডা’ (২০২২) কারিনা কাপুর খান মাতৃত্বকালীন সময়েও নিয়মিত কাজ করেছেন। ‘ভিরে দি ওয়েডিং’ ছবির শুটিংয়ের সময় তিনি অন্তঃসত্তা ছিলেন। পরে দ্বিতীয় সন্তানের সময় ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজও সম্পন্ন করেন।
বদলে গেছে বলিউডের দৃষ্টিভঙ্গি
একসময় গর্ভাবস্থাকে অভিনয়জীবনের বিরতি হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। জয়া বচ্চন থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীরা দেখিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সতর্কতা, পরিকল্পনা ও সহায়তা থাকলে মাতৃত্ব এবং পেশাগত জীবন সফলভাবে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।বলিউডের এই পরিবর্তিত বাস্তবতা শুধু কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণকেই তুলে ধরে না, বরং মাতৃত্বকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার বার্তাও দেয়।


