রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
spot_img

৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

 ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করেছে অ্যাপোলো হসপিটালস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে চেন্নাইয়ের হায়াত রিজেন্সি হোটেলের কনফারেন্স হলে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে টেলিমেডিসিন এবং টেলি-রেডিওলজি সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মো. আলিমুজ্জামানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। তাঁর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করে শোনান বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক।অ্যাপোলো চেন্নাই হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাভিন ভি বলেন, ১৯৮৩ সালে কার্ডিওলজিস্ট ড. প্রতাপ চন্দ্র রেড্ডির হাত ধরে অ্যাপোলোর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে শুধু চেন্নাই অঞ্চলেই তাদের ১০টির বেশি হাসপাতাল রয়েছে।

তিনি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক প্রোটন বিম থেরাপি চালুর ক্ষেত্রে অ্যাপোলোই প্রথম। উন্নত প্রযুক্তি, রোবটিক সার্জারি এবং বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবার কারণেই বাংলাদেশি রোগীদের আস্থা অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সেবার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নাভিন ভি জানান, বর্তমানে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে অ্যাপোলোর পাঁচটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। খুব শিগগিরই সিলেটেও একটি নতুন তথ্যকেন্দ্র চালু করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে রোগীরা বিনামূল্যে ভিসা প্রসেসিং ও চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে রোগীরা বাংলাদেশে বসেই চেন্নাইয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘সেকেন্ড মেডিকেল ওপিনিয়ন’ নিতে পারবেন।

অ্যাপোলো হসপিটালসের রিজিওনাল সিইও ডা. ইলেন কুমারান কে. বলেন, ৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, চিকিৎসার পর রোগীদের ফলো-আপ সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে একাধিক ক্লিনিক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক বলেন, চেন্নাই দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি রোগীদের অন্যতম পছন্দের চিকিৎসা গন্তব্য। ৫ লাখ রোগীর এই মাইলফলকই অ্যাপোলোর প্রতি বাংলাদেশিদের আস্থার প্রমাণ। তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।অ্যাপোলো হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরু প্রসাদ জানান, বাংলাদেশি রোগীদের ফলো-আপ চিকিৎসা সহজ করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং টেলিমেডিসিন সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেস্কের ইনচার্জ সানজিৎ নায়েক সঞ্চালনা করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অ্যাপোলো হাসপাতালের বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দ রিফাত ফারুক। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ফটোসেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত