
সড়ক পার হওয়ার জন্য দুই হাত তুলে যানবাহন থামানোর চেষ্টা করছিলেন রতন পোদ্দার। তাঁর ইশারায় কয়েকটি যানবাহন থামলেও একটি মিনিবাস না থেমে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর শরীয়তপুর শহরের ধানুকা এলাকায় শরীয়তপুর-মাদারীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাটির ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত রতন পোদ্দার শরীয়তপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর মা মৃত যুগল বালা পোদ্দার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত কাজে ধানুকা এলাকায় যান রতন। পরে সড়ক পার হওয়ার সময় তিনি দুই হাত উঁচু করে যানবাহন থামানোর চেষ্টা করেন। তাঁর ইশারায় কয়েকটি যানবাহন থামলেও শরীয়তপুর আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির একটি মিনিবাস না থেমে তাঁকে ধাক্কা দেয়।
বাসের ধাক্কায় রতন ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা রতনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত দেখতে পান। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজধানীতে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বাসটির পিছু ধাওয়া করে চালকসহ বাসটি আটক করেন। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং চালককে আটক করেছে। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত রতনের প্রতিবেশী শ্যামল সাহা জানান, প্রায় এক মাস আগে রতনের স্ত্রী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুর্ঘটনার ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


