বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেস্ক রিপোর্ট, নোঙর নিউজ চট্টগ্রাম: কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হয়। পরে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন।নিহত জান্নাতুল তাজমিনের বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া জানান, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়। পথে তাজমিন চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘শর্টকাট’ পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজার হয়ে অন্যদিকে চলে যায়। পরে অটোরিকশাটি একটি নির্জন ও অন্ধকার স্থানে থামানো হয়। স্থানটি রেসকোর্স নয় বুঝতে পেরে তাজমিন ভীত হয়ে কোথায় আনা হয়েছে জানতে চাইলে চালক তাকে অন্য জায়গায় নিয়ে আসার কথা জানায়।

পুলিশের দাবি, ওই সময় তাজমিন অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিশোরী চিৎকার শুরু করলে সে গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়ে।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তাজমিনকে ধানক্ষেতে নিয়ে তার মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথা পুলিশের কাছে বর্ণনা করেছেন তিনি। এরপর কিশোরীর হাতব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে সুমন স্থানীয় কাচিকাটা মসজিদের সামনের একটি পুকুরে গোসল করেন। পরে ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে তাজমিনের আইফোনটি লুকিয়ে রাখেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান।

পরদিন শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী বাখরাবাদ এলাকারপুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত