
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোঙর নিউজ: কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কক্সবাজার থেকে রাজু চৌধুরী নামে এক হোটেলকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাজুর বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম মনির আহমদ। তিনি কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে গত ৬ অক্টোবর কক্সবাজারের একটি স্থানে নিহত স্কুলছাত্রীর সঙ্গে রাজুকে দেখা যায়। এ সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, রাজুকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বা অন্য কারও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সেখানে পৌঁছালে তাঁকে হস্তান্তর করা হবে।গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তরপাড়ায় মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানখেত থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়েছিল ওই কিশোরী। পরে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারে যায় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।এ ঘটনায় গত শুক্রবার সুমন মিয়া নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত কিশোরীর ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি বাস কাউন্টারের কাছে বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল ওই কিশোরী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৩০০ টাকায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে সে। অভিযোগ, বাড়ির পথে না গিয়ে সুমন তাকে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তারের পর সুমন আদালতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।তদন্তের পরবর্তী ধাপে রাজুর ভূমিকা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

