
স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপও শুরু হবে এ মাসেই।
ইসির প্রণীত সংসদ নির্বাচন-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনায় মোট ২৪টি কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ধাপগুলো হলো—
-
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন দলের নিবন্ধন শেষ করা
-
অক্টোবরের প্রথমার্ধে সংলাপ সমাপ্তি
-
সেপ্টেম্বরের মধ্যেই:
-
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধন
-
ভোটার তালিকা আইন সংশোধন
-
ভোটকেন্দ্র নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত
-
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা প্রণয়ন
-
নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) ২০২৫ প্রতীক আইন প্রণয়ন
-
নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ সংশোধন
-
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ, মতবিনিময়, মিটিং, ব্রিফিং, বাজেট বরাদ্দ, আইটি প্রস্তুতি, প্রচারণা, সমন্বয় সেল গঠন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকসহ অন্যান্য কার্যক্রমের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোডম্যাপে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজও এই মাসেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইসি।
তবে রোডম্যাপে এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ বা ভোটগ্রহণের দিন উল্লেখ নেই। তবে এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন—
“২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তফসিল ঘোষণা হবে তার দুই মাস আগে।”
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন ও প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার জন্যই এই রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষত দল নিবন্ধন, আসন সীমানা নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন—এই তিন ধাপকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রোডম্যাপ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনায় বসেছে। নতুন দলগুলো নিবন্ধনের সুযোগ পাওয়ায় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য আসবে বলেও অনেকেই মনে করছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর একটি অংশ বলছে, তফসিল ও ভোটের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।


