
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর পৃথকীকরণের অংশ হিসেবে তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৩ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এ মামলায় সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূইঁয়া অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সহায়তা করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
গত বছরের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে।
সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুর এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পালন করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। রিটকারীদের মতে, কার্যত নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। কিন্তু ১৯৭৪ সালের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে স্থানান্তর করা হয়। পরে বিভিন্ন সংশোধনী ও আপিল বিভাগের রায় শেষে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান অবস্থান বহাল থাকে।
আইনজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব হ্রাস পাবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হবে।


