
বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে ভারতকে কোনো ধরনের করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে ভারতীয় পণ্য আমদানি ও দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত যুব সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নদীতে পানি না এলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসতে পারবে না। কোনো করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না। একইভাবে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারের সুযোগও দেওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা ও চুক্তির বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশন, গণভোট ও জুলাই সনদের মাধ্যমে সংস্কারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, নির্বাচনের পর সরকার তা উপেক্ষা করছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান।
সরকারের সংস্কার প্রশ্নে টালবাহানার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি সরকারের আট মাসে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানে আসতে হবে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহার না করারও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবিও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের মিছিল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের মিছিল, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে সরকার কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারছে না। সরকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।
ডেস্ক রিপোর্ট | নোঙর নিউজ

