সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

নাইজেরিয়ায় একই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ হামলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাইজেরিয়ায় একই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভোরে মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার রাজ্যের পাপিরির সেন্ট মেরি ক্যাথলিক স্কুলে ঢুকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে অপহরণ করে। স্থানীয় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অপহৃতদের মধ্যে ২১৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১২ জন কর্মী রয়েছেন। খবর জানিয়েছে বিবিসি।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রাত দুটার দিকে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অস্ত্রধারী গোষ্ঠী স্কুলের হোস্টেলে হামলা চালায়। শিক্ষার্থীদের বিছানা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আকস্মিক এই হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; পরিবারগুলো অপেক্ষা করছে প্রিয়জনদের খবরের জন্য।গত কয়েক দিনে নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুর দিকে পার্শ্ববর্তী কেব্বি রাজ্যের একটি বোর্ডিং স্কুল থেকে ২০ জনের বেশি ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলের কওয়ারা রাজ্যের একটি গির্জায় হামলায় দুইজন নিহত এবং ৩৮ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল। একই অঞ্চলের গির্জা অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নাইসার রাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবাসিক স্কুলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সেন্ট মেরি স্কুল ক্লাস চালু রেখেছিল। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।ভয়াবহ হামলার পর হতাশা ও ক্ষোভে কাঁপছে স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা ডমিনিক আদামু জানান, তার মেয়েরা স্কুলে পড়লেও তারা নিরাপদ আছে; তবে পুরো দেশ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আরেক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছয় ও ১৩ বছর বয়সী দুই ভাগ্নিকে অপহরণ করা হয়েছে—“শুধু চাই তারা ঘরে ফিরে আসুক।”

অপহৃতদের সন্ধানে আশপাশের বনাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অপহরণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বিদেশ সফর স্থগিত করেছেন।সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন, যা নাইজেরিয়া সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও নাইজেরিয়াকে ধর্মীয় সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নাইজেরিয়া বলছে, সন্ত্রাসীরা ধর্ম নয়—তাদের মতাদর্শে দ্বিমতকারীদেরই লক্ষ্য করে আক্রমণ।

নানামুখী নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে থাকা দেশটিতে অপহরণ–সহিংসতা এখন আতঙ্কের দৈনন্দিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত