
লিওনেল মেসি মাঠে নামলেই যে রূপকথা লিখে দেন—সিনসিনাটি এফসির মাঠে আরেকবার সেটাই প্রমাণ হলো। আর্জেন্টাইন মহাতারকার গোল-অ্যাসিস্টে ভর করে ইস্টার্ন কনফারেন্স সেমিফাইনালে সিনসিনাটিকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো কনফারেন্স ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মায়ামি। তার সঙ্গে সিলভেতি ও তাদেও আইয়েন্দেকে নিয়ে গড়া তরুণ আক্রমণভাগ যেন পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষকে দম নিতে দেয়নি।
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল উপহার দেয় মায়ামি। ১৯তম মিনিটেই আসে প্রথম গোল। সিলভেতির নিখুঁত ক্রসে হেড করে দলকে এগিয়ে নেন মেসি। প্রথমার্ধে আরও দুটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো ঠেকিয়ে দেন সিনসিনাটির গোলরক্ষক রোমান ক্যালেন্টানো।দ্বিতীয়ার্ধে মেসি হয়ে ওঠেন আরও ধ্বংসাত্মক। তার চোখধাঁধানো থ্রু-পাস ধরে কোনাকুনি শটে গোল করেন সিলভেতি। এরপর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে মেসির দুর্দান্ত পাস ধরে তাদেও আইয়েন্দে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। কয়েক মিনিট পর আবারও মেসির থ্রু পাস ধরেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই তরুণ উইঙ্গার। দারুণ শক্তি ও নিয়ন্ত্রণে ডিফেন্ডারকে ভুলিয়ে বল ধরে গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। মেসির বানানো নিখুঁত একটি সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি রদ্রিগো দে পল। গোলরক্ষকের সামনে একদম ফাঁকা থেকেও শট বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি।এই ম্যাচ দিয়ে প্রমাণ হলো—কোচ হাভিয়ের মাসচেরানোর কৌশল সঠিক ছিল। লুইস সুয়ারেসকে বাইরে রেখে সিলভেতি ও আইয়েন্দেকে নিয়ে দ্রুতগতি ও তারুণ্যনির্ভর আক্রমণ সাজিয়েছিলেন তিনি; যা পুরো ম্যাচজুড়ে সিনসিনাটির রক্ষণকে ঠেকাতে হিমশিম খাইয়েছে।পুরো মৌসুমেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন মেসি। গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ খেতাবের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে। প্লে-অফেও তিনি সমান কার্যকর—এই ম্যাচ শেষে তার গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়াল ১২-এ।
ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে ইন্টার মায়ামির প্রতিপক্ষ নিউ ইয়র্ক সিটি এফসি। তারা অন্য সেমিফাইনালে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। এখন সবাই অপেক্ষায়—মেসি কি মায়ামিকে নিয়ে এবারও লিখতে পারবেন নতুন আরেকটি মহাকাব্য?


