সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

আলিফ হত্যা মামলায় পলাতক ১৮ আসামিকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ আসামিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ না করলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য চলবে।

পলাতক এ ১৮ আসামি হলেন— শুভ কান্তি দাস (২৪), ওমকার দাস (২০), বিশাল (২০), লালা ওরফে লাল দাস (১৯), বিগলাল ওরফে বিকরাল দাস (২০), পরাশ (২২), গণেশ ওরফে শ্রী গনেজ (১৯), পপি ওরফে জয়দেব দাস (২০), দেব (২৫), জয় (৩০), লালা ওরফে লালা দাস মেথর (৪০), সুক দাস (৩৭), ভাজন ওরফে ভজন দাস (৩৭), আশিক (৩৪), শহিত (৩০), শিবা দাস (৩০), দ্বীপ দাস (২৯) ও সুকান্ত দত্ত (৩০)।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন থেকে বহিষ্কৃত ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে আদালত চত্বরে তার অনুসারীরা বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে ইসকনপন্থী এই বিক্ষোভকারীরা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে সড়কে ঘিরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন ২৯ নভেম্বর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫–১৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতয়ালি অঞ্চল) মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীনের আদালতে অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৩৯ আসামির মধ্যে ২১ জন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জন এখনও পলাতক। এ বিষয়ে মামলার সরকারি কৌঁসুলি সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হবে এবং সেখান থেকে অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু হবে।”

মামলার তিন আসামি—চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য্য—আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা জানান, ঘটনাস্থলে রিপন দাস আলিফের ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন। কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। এরপর ১৫–২০ জন বিক্ষোভকারী লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে একযোগে হামলা চালিয়ে আলিফকে হত্যা করে।নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি আমার সন্তানের বিচার চাই। যারা আমার ছেলেকে সাপ মারা মতো পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এক বছর হয়ে গেলেও অনেক আসামি এখনো ধরা পড়েনি। দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১৮ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। ওই মামলায় চিন্ময়কে ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন নামঞ্জুর হয়। পরে তার অনুসারীরা আদালত প্রাঙ্গণে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন এবং সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আইনজীবী আলিফ নির্মমভাবে নিহত হন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত