শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
spot_img

চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা সংসদে তুলে ধরেছেন শাহজাহান চৌধুরী : এম এ মালেক

নিজস্ব প্রতিবেদক

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, অতীতে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত অনেক নেতা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে গেলেও নির্বাচনের পর তাঁদের চট্টগ্রামে খুব একটা পাওয়া যায়নি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেন চট্টগ্রামের নেতা হিসেবেই নিজেকে গড়ে তোলেন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবেন ও কাজ করেন।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে মজলুম জননেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদীয় দলের হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রদত্ত ভাষণের ওপর প্রকাশিত বিশেষ সংকলন ‘সংসদীয় ভাষণ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম এ মালেক বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী একজন আদর্শবাদী ও জনসম্পৃক্ত নেতা। তিনি অতীতেও জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন—এমন প্রত্যাশা সবার। তিনি বলেন, সংসদে দেওয়া বক্তব্যগুলো আজ বই আকারে প্রকাশিত হওয়ায় আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে তিনি সংসদে কী বলেছিলেন। জানার কোনো শেষ নেই, যত বেশি পড়া হবে তত বেশি জানা যাবে। একটি ভালো বই একজন বন্ধুর মতো এবং একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেকে যদি নিজেকে সৎ, দায়িত্ববান ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তবে সম্মিলিতভাবে একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিনটি স্তর পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজের জায়গা থেকেই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, তিনি আজীবন চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গেই থাকতে চান এবং চট্টগ্রামের বাইরে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই। ভবিষ্যতেও তিনি চট্টগ্রামের বাইরে কোথাও থাকবেন না এবং চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, অতীতে সংসদে তিনি শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়ন নয়, বরং চট্টগ্রামের বড় বড় সমস্যা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও বক্তব্য রেখেছেন, যা এই বইয়ে স্থান পেয়েছে। আগামী দিনেও চট্টগ্রাম ও দেশের স্বার্থে সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও পরিবেশ বিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম বলেন, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী যেভাবে বাংলাদেশ ও নিজ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি পায়ে হেঁটে এলাকায় এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেন এবং উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। এমন জনবান্ধব নেতৃত্ব থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জাতীয় সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ছিল সময়োপযোগী ও শিক্ষণীয়। ভিন্নমত থাকলেও চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, একসময় চট্টগ্রামে কথা বলার মতো পরিবেশ ছিল না, বর্তমানে সেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ জন্য তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফারুক হোসেন, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, হৃদয় তরুয়া, শহীদ তানভিরসহ সারাদেশের দুই হাজার শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তাফহীম পাবলিকেশনের সত্ত্বাধিকারী মুহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ, দৈনিক কালের কণ্ঠের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোস্তফা নঈম, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম সেলিম এবং এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান আবুল হাসনাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত