
ভোটকেন্দ্রে দলীয় ভালোবাসা নিষিদ্ধ; কোন দলের প্রতি ভালোবাসা দেখানো যাবে না: ডিসি জাহিদুল ইসলাম
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কারও মধ্যে বিন্দুমাত্র সংশয় থাকলে তা ভুলে যেতে হবে। তা না হলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জেলার পটিয়া উপজেলার প্রিজাইডিং অফিসারদের এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সংশয় রেখে দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই। “হয় সংশয় ভুলে যেতে হবে, নয়তো দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হবে। এখানে রাষ্ট্র গঠনের কমিটমেন্ট প্রয়োজন।”
তাদের উদ্যেশ্য তিনি আরো বলেন, বিন্দুমাত্র সংশয় থাকলে ভুলে যান কিংবা দায়িত্ব থেকে সরে যান।
নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, হয় দায়িত্ব থেকে চলে যেতে হবে। নয় সংশয় ভুলে যেতে হবে। কমিটমেন্টের জায়গায় আসতে হবে। রাষ্ট্র গঠনের কমিটমেন্টের জায়গায় আসতে হবে।
এখানে অফিসার যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের আগে বুঝতে হবে জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন,আমাদের দায়িত্বটা কি। সেটা বুঝে নিতে হবে। এই নির্বাচনটা কিসের নির্বাচন? এটা কি শুধু ক্ষমতার পালাবদল? এটা কি শুধু চেয়ারের পরিবর্তন? না আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে যাচ্ছি?
যে বাংলাদেশে আপনি নিরাপদে থাকবেন, আপনার সন্তান নিরাপদে থাকবে,আমি নিরাপদে থাকবো,আমরা কি সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে যাচ্ছি?
না শুধু ক্ষমতার পালাবদল? কোনটা? সেটা আপনাকে বুঝে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন,আর আমরা যদি নতুন একটা বাংলাদেশ চাই, যে কারনে আমার ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছেন, আমার ভাইয়েরা গুলি বিদ্ধ হয়েছেন। আমরা যদি নতুন বাংলাদেশ চাই, আমরা চাইলেই কি হয়ে যাবে না? আমাদের কোন পরিশ্রম করতে হবে না?
তিনি বলেন, আমাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমরা কি সেই ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি, না নাই?
বাংলাদেশের সন্তানদের বুকে তো সেই রক্ত, যে রক্ত হায়েনা বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধ করেছে। আমাদের সন্তানদের মধ্যে তো সেই রক্ত।অস্ত্র ছাড়া গুলি খেয়েছে,পিছু পা হয়নি।
আমাদের কি সেই রক্ত নাই?আছে।জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের সেই রক্তে উজ্জীবিত হতে হবে। ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন,আজকে আমরা যারা প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি,তাদের আচরণ কি হবে নির্বাচন পর্যন্ত, সেটা আপনাদের অনুভব করতে হবে, বুঝতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই মনিটরিং করব।
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,আপনার কারো প্রতি ভালোবাসা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ভালোবাসা দেখাতে পারবেন না। পরিষ্কার কথা, কারো প্রতি কোন ভালোবাসা দেখানোর সুযোগ নাই। রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব দেখাতে হবে। কোন ভালোবাসা কোন দলের প্রতি দেখানোর সুযোগ নাই।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের শতভাগ নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। এই নিরপেক্ষতার জন্য এতগুলো সন্তান রক্ত দিয়েছে। একটা সিস্টেম দাঁড় করানোর জন্য এতগুলো সন্তান জীবন দিয়েছে। এতগুলো ভাই বুলেট বৃদ্ধ হয়েছে। এটা তৈরি করতে হবে। এটা আমাদের ওয়াদা। এটা আমাদের প্রত্যয়। এই প্রত্যয় আমাদের রাখতে হবে। যদি কারো মধ্যে বিন্দুমাত্র সংশয় থাকে,তাহলে ভুলে যান।
তিনি আবারো বলেন কোন সংশয় থাকলে,ভুলে যান। কিংবা দায়িত্ব থেকে সরে যান। হয় দায়িত্ব থেকে চলে যেতে হবে, নয় ভুলে যেতে হবে। কমিটমেন্টের জায়গায় আসতে হবে। রাষ্ট্র গঠনের কমিটমেন্টের জায়গায় আসতে হবে।
তিনি বলেন,রাষ্ট্রের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার কমিটমেন্টের জায়গায় আসতে হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। আপনাদেরকে নিয়ে জাতির অনেক প্রত্যাশা। বিদেশীরা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে, আমরা কি রাষ্ট্র গঠন করছি। আমরা কি রাষ্ট্রকে কাঙ্খিত নির্বাচন উপহার দিতে পারব কিনা। আমরা কি ব্যর্থ হব। ব্যর্থ হওয়ার কোন সুযোগ আছে?
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশ্য
জেলার প্রধান নির্বাচনী কর্তা বলেন,আমরা আপনাদের যেমন নিরাপত্তা দিব,পাশাপাশি কেন্দ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করব। চালেঞ্জ থাকবেই। কোন কিছুই চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয় না। চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। ভুলে যেতে হবে আমার নিজের স্বার্থ। দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন,ভালোভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে যেতে হবে। কারন গণ ভোটের চারটি অংশ আছে। আমার ভোটাররা আপনাদের প্রশ্ন করবে,তার উত্তর দিতে হবে। আপনারা এটি জেনে যাবেন। যদি জেনে না থাকেন,সেটি জেনে যাবেন। পড়ে যাবেন,প্রশিক্ষনে শিখে যাবেন। প্রশিক্ষণে যদি না শেখায়,তাহলে নিজেরা শিখে যাবেন। কিন্তু আমার নাগরিকরা আপনাকে প্রশ্ন করলে সেটার উত্তর দিতে হবে। আপনি বলবেন, না, আমরা জানি না, এটা কি আমরা তো জানি না, তা হবে না।
তিনি আরো বলেন,
আপনার দায়িত্ব আছে সেটা পালন করতে হবে। আমরা যেন এটা না শুনি,কোন ভোটারকে আপনারা বলেছেন, না, আমরা তো এটা জানি না। যখন দায়িত্ব নিয়েছেন,তখন পরিষ্কারভাবে দায়িত্ব কাধে তুলে নিতে হবে। দায়িত্ব এড়ানোর কোন সুযোগ নাই। আমরা নির্বাচনের যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা,সেটা ঢেলে সাজাচ্ছি।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, জানি চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জে যে নাই,সেটা না। আপনাদের কাছে যদি কোন কিছু হুমকি মনে হয়,আমাদের জানান। আমরা ব্যবস্থা নিব। যেই হোক,আমরা ব্যবস্থা নিব। আমরা একটা উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দিবো না। কোন ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নাই।
প্রিজাইডিং অফিসারদের উপর জেলা প্রশাসক আস্থা রেখে তিনি বলেন,আমরা প্রত্যাশা করি আপনারা যারা এসেছেন, সেই দক্ষতা আছে। এই যোগ্যতা আছে। আপনারা সেই দিন, এই ১২ তারিখে সেই দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিবেন। আমরা আপনাদের সেই দক্ষতা ও যোগ্যতা দেখতে চাই।
আমরা কোন অভিযোগ শুনতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করি,আপনাদেরকে দিয়ে আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারব।
গণভোটের গুরুত্ব বর্ণনা করে তিনি প্রশ্ন করেন,এটা কয়জন দেখেছে,তার মতামতের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারিত হয়েছে। রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার হবে, এটি কয়বার জনগণ দেখেছে? এই সুযোগ কাদের কাদের ছিল? আপনার জীবনে কয় বার আসবে? যেহেতু সুযোগটা এসেছে, তাই সেটা কাজে লাগাতে হবে এবং সেখানে দক্ষতার সাথে কাজে লাগাতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন,সমস্যার কথা বলে দায়িত্বের অবহেলা করা যাবে না। সাবধান। সমস্যা ছিল। আমার এই লোক ছিল না,তাই দায়িত্ব পালন করতে পারি নাই, এটার কোন সুযোগ নাই। আমরা সেটা শুনবো না।
তিনি আবারো স্বচ্ছ নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি পুনঃ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার
মোহাম্মদ নাজির আহমদ খাঁন,স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান,সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান।


