
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে বহুল আলোচিত শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
এর আগে গত ১৫ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(৪)(খ) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামি বাবু শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪, চট্টগ্রামের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।আদালত আগামী ২৯ জুন আসামি পরীক্ষার দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আশা, বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগোলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।ভিকটিম পরিবারের আইনজীবী ও অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, এ মামলার বিচার কার্যক্রম তুলনামূলক স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে, রাষ্ট্র আন্তরিক হলে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জঘন্য অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে সমাজে শক্তিশালী বার্তা যাবে যে, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
তিনি বলেন, বিচার দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আদালত এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, স্টেট ডিফেন্স, তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন দিতে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস বিলম্ব হওয়ায় বিচার কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে যায়। সময়মতো প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মামলার বিচার আরও অন্তত দুই মাস আগেই শেষ করা সম্ভব হতো।তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং এ মামলার রায় শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচিত বা প্রতিবেশী বলে অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস না করে শিশুদের সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা এবং তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


