সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
spot_img

মহেশখালীতে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ মিন্টু বাহিনীর প্রধান আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে (৩৮) আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে যে, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গোপনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে চক্রটি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার পাশাপাশি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে স্থানীয় জনগণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে হোয়ানক এলাকার কুখ্যাত মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযান চলাকালে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে আটক করা হয় মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, মহেশখালী থানার হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ‘মিন্টু বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।কোস্ট গার্ডের দাবি, মিন্টুর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার অন্যতম একটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সফলতা অর্জিত হয়েছে। তার বাহিনীর কর্মকাণ্ডে মহেশখালীসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে ও লবণ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। এই অভিযানের ফলে উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, মিন্টু বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড যে সফলতা অর্জন করেছে, সেই ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালান নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত