সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
spot_img

মামলার চাপ কমাতে ১০ জেলায় প্রি-কেস মধ্যস্থতা কার্যক্রম উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: মামলাপূর্বক (প্রি-কেস) বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্বক বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।তিনি জানান, ২০টি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে।

আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, পারিবারিক আদালত আইনের মামলা ৩,৫৫৯টি থেকে ১,৭৪৪টিতে নেমে প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। বণ্টন সংক্রান্ত মামলা ২,০০১টি থেকে ৬৬১টিতে নেমে ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলা ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনের মামলা ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের মামলা ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে।

তিনি বলেন, নতুন মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিচারাধীন যেসব মামলা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার জন্য পাঠালে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের সুযোগ পাচ্ছে।কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে তিনি জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসের মধ্যে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন বাস্তবায়নে জাইকা (JICA), জিআইজেড (GIZ) এবং ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় একযোগে মামলাপূর্বক বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।আইনগত সহায়তা দেওয়া (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ অনুযায়ী এখন থেকে এসব জেলায় সাতটি নির্ধারিত আইনের আওতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত