সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
spot_img

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে চুরি-পাইরেসি কমেছে, দাবি কোস্ট গার্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটি বলছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে বহিঃনোঙরে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে |শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি “চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট, নিরাপত্তা উদ্বেগ” শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদের কিছু তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সংবাদে উল্লেখিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি জাহাজের ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে কোনো মালামাল চুরি হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে No Objection Certificate (NOC) ও Letter of Appreciation প্রদান করেছে। তাই ওই জাহাজগুলো থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুট হওয়ার তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে বাহিনীটি।

অন্য একটি জাহাজের ঘটনায় চুরির সময় কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়নি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং টিম পাঠানো হয় এবং মালামাল উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে।কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জনস্বার্থ, দেশের সামুদ্রিক খাতের ভাবমূর্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থ বিবেচনায় সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে পূর্ব জোনের আওতায় চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া গত রাতেও বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে। চোরাকারবারি ও ছিঁচকে চোররা মৎস্য আহরণের আড়ালে এবং বিভিন্ন অজুহাতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের সুনীল অর্থনীতি, সমুদ্রবন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জনবল, বোট ও কিছু সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের উদ্যোগে বাহিনীতে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত